
তারিখ- ১০ মে, ২০২১
গত ২ রা মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী সংঘর্ষে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বহু জায়গায়।
ফলাফল ঘোষণার সঙ্গেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২১২ টি আসন) নিয়ে একক দক্ষতায় আবারও ক্ষমতায় ফিরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অপরদিকে ৭৭ টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের তকমা পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
কিন্তু বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে এই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরেও রাজ্যের দিকে দিকে বিজেপি কর্মীদের আক্রান্ত হতে হচ্ছে তৃণমূল কর্মীদের হাতে। কোথাও বিজেপি কর্মীদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে কথাও উঠে আসছে বিজেপি কর্মীদের দোকানপাট লুটের ঘটনা। এমনকি বিজেপির মহিলা কর্মীদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বহু জায়গায়।
আবার অপরদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও বিচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও একই কথা বলেছেন। এদিন মমতা বলেন, ‘এতদিন নির্বাচনের কারণে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা কমিশনের আওতায় ছিল। এবার রাজ্যে অধীনে তা আনা হবে।’
কিন্তু কি হবে যদি বর্তমান মমতার সরকার কঠোর হাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়? এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি শাসনের জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে কেন্দ্র গৃহ মন্ত্রণালয়। সেই বিশেষ সদস্যের প্রতিনিধিদল এর উপরেও হামলার ঘটনা ঘটে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।
কেন্দ্রীয় বিশেষ দলের ওপর হামলার প্রেক্ষিতে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব এর কাছ থেকে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রণালয়। এই ঘটনার পরেও রাজ্যের বিভিন্ন হিংসা কবলিত এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। বেশ কয়েক জায়গায় হিংসা সামলাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকার ও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যকে অবস্থা সামলানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত অনুসারে যদি রাজ্যে আইন-শৃংখলার এভাবেই অবনতি হতে থাকে এবং দিকে দিকে হিংসা বন্ধ না হয় তবে রাষ্ট্রপতি শাসন শেষ বিকল্প হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বরখাস্ত হতে পারে বর্তমান রাজ্য সরকার।

One thought on “পশ্চিমবাংলায় জারি হতে চলেছে রাষ্ট্রপতি শাসন?”